ইন্দুরকানীর বাজপেয়ির জমিদার বাড়ির ধ্বংশাবশেষ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল একটি পরিবার ও কতিপয় লোক ।প্রভাষক মো.ইউসুফ আলী

300

 

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
এ.বি.এম.সিদ্দীকুল্যাহ সাগর
পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট বন্দরে অবস্থিত বাজপেয়ির জমিদার বাড়িটি বর্তমানে সংরক্ষনের অভাবে আজ মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে । প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটি সংস্কার করে রক্ষা করলে এটি দশর্নার্থীদের জন্য আর্কষণীয় স্থান হতে পারত বলে মন্তব্য স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ঠ ব্যক্তিদের ।
ব্রিটিশ শাসনামলে দক্ষিণাঞ্চলের কচা নদীর কোলঘেঁষা ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট বন্দর এলাকায় গড়ে তোলা হয় বাজপেয়ির জমিদার বাড়িটি। সূর্য প্রসন্ন বাজপেয়ি এ এস্টেটের প্রথম জমিদার ছিলেন । তিনি সম্প্রতি পরলোকগমন করা ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির গোষ্ঠীর লোক বলে জানা যায় । তিনি এখানে গড়ে তোলেন কাচারি বাড়ি, সভাকক্ষ, বাসভবন ইত্যাদি ।দুই একর জমির ওপর নির্মিত এই প্রাসাদের দেয়াল ইট এবং ছাদ ইট- টালি দিয়ে তৈরি । কোনো ভবনেরই ছাদ আর অবশিষ্ঠ নেই।দরজা –জানালাগুলো খুলে নিয়ে গেছে । কোন কোন ভবন ছেয়ে আছে লতা পাতা গাছে । স্থানীয়দের অভিযোগ প্রায় ই তারা বড় বড় সাপ বের হতে দেখেন ভাংগা দালানের মধ্য থেকে । ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর এই জমিদার বাড়ির মানুষজন এলাকা ছেড়ে চলে যান । পরে তারা ও তাদের উত্তরসূরিরাও আসেননি এলাকায় ।
কালের বিবর্তনে জমিদার প্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় তাদের রেখে যাওয়া সব স্মৃতি ধ্বংসের মুখে । সরেজমিনে পরির্দশন কালে দেখা গেছে জমিদার বাড়ির কাচারিঘর ও মন্দির এর মাঝখান দিয়ে পশ্চিম দিকে বিশ্ব রোড়ে উঠার জন্য ও উমেদপুর হোগলাবুনিয়া গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলা চলের জন্য রাস্তা রয়েছে । এই রাস্তাটির একেবারে কোল ঘেষে দাড়ানো সেই জমিদার বাড়ির শতশত বছরের পুরাতন ঘর এই ঘরের ছাদ ভাংতে ভাংতে প্রায় শেষ । এখন বাকি রয়েছে পুরাতন দেয়াল এই দেয়াল এমন ভাবে মাঝে মাঝে ফাটল ধরেছে যেকোন সময় মারাত্মক দূর্ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রছেছে । দেয়াল এর ইটগুলো মাঝে মাঝে আপনা আপনি পড়তে দেখা গেছে। ঐ দেয়াল এর পার্শ্বেই রয়েছে পাড়েরহাট আর্দশ কিন্ডার গার্টেন এখানে শতাধিক কোমলমতি শিশুরা লেখা পড়া করে এবং যাতায়াত করে অথচ এ যেন দেখার কেউ নেই। এরপরে কাচারিঘরের পিয়ার গুলো ইটের তৈরি এই পিয়ার গুলোর ইট মাঝে মাঝে পরে গেছে এখন অর্ধেক ইট নিয়ে দাড়িয়ে আছে এমন পিয়ারের সংখ্যা প্রায় ৩০ এর উপরে এবং কাচারি ঘরের ছাদের জন্য ব্যাবহার করা হয়েছিল চারা সেই ছাদের চারাগুলো আপনা আপনি পরতে দেখা গেছে । কোনো চারা ঝুলতেছে যে কোন সময় পরতে পারে। জমিদার বাড়ির পাশে বর্তমানে আবাসিক এলাকা হওয়ায় সেখানে ঘন বসতি বহু কোমলমতি অবুঝ শিশুদের সেখানে খেলতে দেখা গেছে । কখন যে কার মাথায় চারাগুলো পরে আহত হয় কে যানে । এই জমিদার বাড়ি বর্তমানে সরকারের খাস খতিয়ানের অন্তরভুক্ত হওয়ায় যে যার মতো করে ব্যবহার করছে দেখার কেউ নেই । কেউ ধান ভাংঘানোর মেশিন রাখে মাসের পর মাস। আবার কেউ জমি চাষ করার ট্রাকটার মাসের পর মাস রেখে ব্যবসা করে । আবার কেউ পুরাতন টমটম ভটভটি বা অন্য কিছু রেখে বছরের পর বছর ব্যবসা করে আসছে । কয়েকদিন আগে স্থানীয় মাখনের নাতী, শয়ন নামের এক শিশু সেই মেশিনে মারাত্নক আহত হয় বলে জানাযায় । আমাদের সমাজের একটা বদ অভ্যাস আছে তাহল যখন মারাত্মক কোন দূর্ঘটনা ঘটে যায় তখন সেখানে অনেক কিছু জারি হয় । কিন্তু এর আগে কেউ বললেও শুনে না, আমার মনে হয় পাড়েরহাটের জমিদার বাড়ির বেলায়ও একই ঘটনা ঘটবে ।
সরে জমিনে পর্রিদশনে গেলে দেখা যায় ছাদের ভাংগা অংশ পরে রয়েছে এবং পুরাতন ভবনটি ফেটে হেলে রয়েছে রাস্তার উপর পাশের ভবনের উপর এবং ৩ ফুট ব্যাবধানে পাড়েরহাট স্কুলের হেড মাস্টার কোয়াটার এই কোয়াটারে বসবাস কারীরা রয়েছে চরম ঝুকির মধ্যে যে কোন সময় পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে কোয়াটারের দেয়ালে পরতে পারে আর তাতে বসবাস কারী শিক্ষকদের পরিবারের প্রানহানী হওয়ার আশংকা রয়েছে । অনেকেই ঐ ভবনের লোকজনকে অন্যাত্র বসবাস করার পর্রামশ দিয়েছেন । কিন্তু করোনার কারনে তাও সম্ভব হচ্ছে না ।

গতকাল ২২ শে জুন প্রচুর বৃস্টি হওয়ার কারনে ভাঙ্গা ছাদে পানি জমে হঠাৎ করে বিকট শব্দে ছাদ ও দেয়াল ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে ।এই ভবনের পাশ দিয়ে দুই দিকে রাস্তা রয়েছে একটি হল মো. হারুন হাওলাদারের বাড়ির রাস্তা অপরটি হল শেখ বাড়ি হয়ে বিশ্ব রোড়ে বের হওয়ার রাস্তা। হাজার হাজার লোকজন নিয়মিত চলাফেরা করে থাকে এই ভবনের কোল ঘেষেঁ কাজেই এই সকল পথ চারিদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময় মর্মান্তিক ঘটনার আশংকা রয়েছে ।
স্থানীয় কতিপয় লোকের সাথে কথা বলে জানায়ায় যে তারা চান হয় সরকার এটিকে সুন্দরভাবে সংস্কার করে রক্ষা করুক । না হয় মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ নায় সে জন্য যে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করুক । নাম প্রকাশ না করার শর্তে একব্যাক্তি বলেন যে ২০১৮ সালের শেষের দিকে ইন্দুরকানী উপজেলার তৎকালীন ইউএনও রাজিব আহমেদ এর কাছে আবেদন করেছিলাম । স্যার প্রকৌশলী বনি আমিন স্যারকে দায়্ত্ব দিলে তিনি সরে জমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট পেশ করেছিলেনে ইউএনও স্যার চলে যাওয়ার কারনে সামনে অগ্রসর হয়নি ।
অত্র এলাকার জনগনকে মারাত্নক ক্ষতির হাত থেকে বাচানোর জন্য এখনি পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে অনেকে মনে করেন ।