কামরুল হাসান রিপন বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবীকে বুকে ধারণ করেই ঢাকা-০৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী

329

বিশেষ প্রতিনিধি, রাহাদ হোসেনঃ বহু ত্যাগ তিতীক্ষার বিনিময়ে আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন একটি রাষ্ট্র। এই মাসের ৭ জুন ছিল ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ৭ই জুন এক অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৬৬ সালের এই দিন বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা আদায়ের লক্ষ্যে আওয়ামীলীগের ডাকে হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, সফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন। শহীদের রক্তে ৬ দফা আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র; রাজপথে নেমে আসে বাংলার মুক্তিকামী জনগণ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়।

এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপসহীন সংগ্রামের ধারায় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬ দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামে পরিণত হয়।
পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে স্বৈরাচার আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ডাকা এক জাতীয় সম্মেলনে পূর্ব বাংলার জনগণের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ফিরে ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করেন এবং বাংলার আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জনগণের সামনে ৬ দফার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বাংলার সর্বস্তরের জনগণ এই ৬ দফা সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করে এবং ৬ দফার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানায়। ৬ দফা বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৬ দফা হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির সনদ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। দিবসটি প্রতিবছর যথাযথ কর্মসূচির মাধ্যমে সাড়ম্বরে পালন করে আওয়ামিলীগ সহ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে সীমিত আকারে এবং ভিন্ন আঙ্গিকে দিবসটি পালিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর এই বাংলাদেশ এখন স্বাধীন একটি রাষ্ট্র। কিন্তু এই বাংলাদেশে এখনো স্বাধীনতা অপশক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এমনকি ১/১১ এর আন্দোলনের বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে যখন আদালতে নেয়া হয়, তখন সর্বপ্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে কামরুল হাসান রিপনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বাঁধা দিলেও তা উপেক্ষা করে মিছিল চালিয়ে যান রিপনসহ নেতাকর্মীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত দূর্বার আন্দোলন করেন তিনি। ওইদিনে পাঁচটি মামলা করা হয় এবং একটি মামলার প্রধান আসামি করা হয় কামরুল হাসান রিপনকে। অনেক নির্যাতন সহ্য করেও প্রধানমন্ত্রী সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত পিছপা হয়নি রিপন।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ‘ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস’ উপলক্ষে ঐতিহাসিক ৭ জুনের সব বীর শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে পরম করুণাময়ের নিকট প্রার্থনা করার জন্য আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনা প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে করোনা সংকট মোকাবিলায় চলমান কর্মোদ্যোগকে আরও গতিশীল করার জন্য আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নবাবজাদা নসরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে লাহোরে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে এক জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দিন অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬ দফা উত্থাপন করেন। পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে যাতে এটি স্থান পায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এই দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬ দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়।

পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬ দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামিলীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন। ৬ দফার মূল বক্তব্য ছিল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সব ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে। পূর্ব বাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপন।

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬ দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় জবাব দেওয়া হবে। তার হুমকি উপেক্ষা করে ৬ দফা কর্মসূচি জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামিলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সমগ্র পূর্ব বাংলা সফর করেন। ৬ দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, জহুর আহমদ চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম চৌধুরী গণসংযোগে অংশ নেন। যশোর, ময়মনসিংহ, সিলেটসহ কয়েকটি স্থানে ৬ দফার পক্ষে প্রচারকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। এই দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামিলীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে।

অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকেরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবার বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে সর্বসময় সাবেক ছাত্রনেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আলহাজ্ব কামরুল হাসান রিপন দুঃখি ও দরিদ্র মানুষের পাশে মানব সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে ঢাকা ০৫ আসনটির শূন্যতা পূরণে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব কামরুল হাসান রিপন কে চায় জনগণ। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ঢাকা-০৫ আসনের জনগণের একটাই দাবি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আলহাজ্ব কামরুল হাসান রিপন যেন ঢাকা-০৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।

এ প্রসঙ্গে আলহাজ্ব কামরুল হাসান রিপন প্রতিবেদককে বলেন,এই মাসটা আমাদের বাঙ্গালীদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটা মাস। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ স্বাধীন একটি রাষ্ট্র। কিন্তু এক সময়ে বাংলাদেশটি পরাধীন ছিল। পশ্চিম পাকিস্তান দের অন্যায়, অত্যাচার, নিপীরন থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন ১৯৬৬ সালের এই মাসে‌ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতা অপশক্তিগুলো ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের ২১ জনকে হত্যা করেছিল। এমনকি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কয়েকবার হত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছে। যারা এই কর্মকান্ডগুলো চালিয়েছেন তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ঢাকা-০৫ আসনটি হারিয়েছে একজন প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি কে। যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর সৈনিক ছিলেন। তার শূন্যস্থান পূরণে ঢাকা-০৫ আসনে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করব ঢাকা-০৫ আসনটি। দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত এবং নারীদের প্রতি যথাযথ সম্মান এর ব্যবস্থা, যৌন হয়রানি, নারী নির্যাতন দূরীকরণে কাজ করব এবং শিশুদের মেধা বিকাশে ঢাকা-০৫ আসনে অত্যাধুনিক পার্ক নির্মাণ করার ব্যবস্থা নিব, যুব সমাজের জন্য বেকারত্ব দূরীকরণের ব্যবস্থা নেব, শিক্ষার মান উন্নয়নে বেসরকারি মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজগুলো এমপিওভুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেব, গরীব-দুঃখীদের জন্য সরকারি অনুদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব এবং রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পরিবেশ দূষণ মুক্ত করার জন্য ঢাকা-০৫ আসনের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব।