দেওয়ানগঞ্জ টু রৌমারী রেলপথ স্থাপনে বদলে যাবে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট।

396

 

মোঃ ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবী জানান সচেতন মহল। প্রকাশ থাকে যে, ভারতের মেঘালয় ও আসামের গারো পাহাড়ের সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলা রৌমারী,রাজীবপুর। প্রায় ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৫৬ জন মানুষের বসবাস (আদমশুমারী ২০১১ অনুযায়ী)। এই দুই উপজেলার পূর্বে ভারত ও পশ্চিমে চিলমারী উপজেলার হাজার হাজার মানুষের নিয়মিত যাতায়াত এই দুই উপজেলায়। দুই উপজেলায় মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রানের দাবী, রৌমারী পর্যন্ত রেলপথ সংযোগ। স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই এই এলাকার মানুষ রৌমারী পর্যন্ত রেল লাইন সংযোগের দাবী জানিয়ে আসলেও তখনকার পাকিস্তানী শাষকগোষ্টি জনগনের এই দাবী আমলে নেয়নি। স্বাধীনতার পরবর্তী ৪৯ বছর পেরোলেও আজ পর্যন্ত এই দুুই উপজেলায় রেল লাইন সম্প্রসারনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।রৌমারী রাজীবপুর দুই উপজেলা অর্থনৈতিক ভাবে একটি গুরুত্ব পূর্ন উপজেলা, হিন্দু মুসলিম, অধ্যুষিত এই দুই এলাকা, একটি এলসি পোর্ট ও একটি বর্ডার হাট রয়েছে,এবং অসংখ্য চর এলাকা রয়েছে। প্রতিদিন দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে এই চরে।সম্প্রতি ঢাকা রৌমারী রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই রাস্তার কাজ শেষ হলে জন দুর্ভোগ কিছুটা কমবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো এই রাস্তা দিয়ে এতো পরিমান ওজন বহন ট্রাক যাতায়াত করে যা রাস্তার স্থায়ীত্ব নিয়ে অভিজ্ঞ মহল যতেষ্ঠ সন্দীহান। অতিরিক্ত বোঝাই ভেজা বালু পরিবহনের কারণে ভেজা বালু থেকে পানি পরতে পরতে রাস্তার বিটুমিন ধুয়ে রাস্তার প্রান শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে রাস্তা দুর্বল হয়ে ভেঙ্গে যায়।রৌমারী,রাজীবপুর বাসীর প্রানের দাবী।রৌমারী থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দুরে দেওয়ানগঞ্জ বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত। ব্রিটিশ আমলের রেল যোগাযোগ রয়েছে, এই ৪০ কিলোমিটার রাস্তা রেল লাইন সংযোগ সম্প্রসারণ করা হলে পাল্টে যাবে রৌমারী,রাজীবপুর উপজেলা সহ পার্শবর্তী চিলমারী এবং এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের আর্থ সামাজিক জীবন মান।বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেলের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে,যা অব্যাহত আছে। রৌমারী পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারন করা হলে, এই অঞ্চলের কৃষি পণ্য, পাথর, বালু, বনজ সম্পদ সহ রৌমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানীকৃত মালামাল পরিবহনে যুগান্তকারী সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অপরদিকে দেশ বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের আগমন হবে সহজ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। প্রতি বছর সরকার পাবে মোটা অংকের রাজস্ব। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে, তার সাথে অংশীদার হতে এই এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে। বর্তমান সরকার বাস্তবমুখী উন্নয়নে বিশ্বাসী বলেই, এই এলাকার সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি সহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষের প্রত্যাশা, দেওয়ানগঞ্জ টু রৌমারী রেললাইন সংযোগ স্থাপন করে তাদের দাবীটি বাস্তবে রুপ দিবেন।

এই দুই উপজেলা খাদ্য উবৃত্ত উপজেলা হিসাবে খ্যাত, প্রতি বছর আমন ও ইরি-বোরো,গম মৌসুমে হাজার হাজার টন খাদ্য শষ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রেরন করা হয়। এ ছাড়া রৌমারী স্থল বন্দর হয়ে আসা পাথর বহুতল ইমারত সহ ব্রীজ কালবার্ট নির্মানে উৎকৃষ্ট কাঁচামাল, এ ছাড়াও এই এলাকার চাষ হওয়া সোনালী আশ পাট অর্থনৈতিক ভাবে এই এলাকাকে করেছে সমৃদ্ধ। জাতীয় নিরাপত্তার জন্যেও এই এলাকা অনেক গুরুত্বপুর্ন।এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ৬৫ হাজারের মত মুক্তিযোদ্ধা এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে,যা মুক্তাঞ্চল নামেও খ্যাত। সীমান্তের অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় ও আসাম প্রদেশ, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষায় এলাকায় রয়েছে বেশ কয়টি বিজিবি সীমান্ত ফাড়ী। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা সহ চোরাচালান রোধে তাদের দায়ীত্ব পালন সহ তাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র সস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহ করতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রৌমারী,রাজীবপুরের সাথে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ এমন পর্যায়ে রয়েছে যে তার বর্ণনা করা কঠিন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজীবপুর উপজেলা রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সদস্য সচিব শিপন মাহমুদ জানান- দ্রীর্ঘ দিন ধরেই আমরা দাবী জানাছি রৌমারী পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের জন্য। এই অঞ্চলে রেলপথ স্থাপন হলে আমাদের কষ্ট অনেকাংশেই লাঘব হবে। বর্তমানে প্রায় ৪০ কি.মি. এর বেশি পথ ঘুরে দেওয়ানগঞ্জ গিয়ে রেল গাড়ি ধরতে হয়। বর্ষাকালে অনেক সময় রাস্তা খারাপ থাকায় রেলগাড়ি ধরতে পারি না। আমরা রৌমারী,রাজীবপুরবাসী সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি রৌমারী পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের জন্য। এতে করে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির নির্বাহী পরিষদের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ হাসান জানান- বর্তমানে আমাদের দেশ উন্নত মধ্যম আয়ের দেশ,যে দেশে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই পদ্মাসেতু র্নিমাণ করতে পারে, তাদের জন্য মাত্র ৪০ কি.মি. রেলপথ স্থাপন কোনো কিছুই না। এই ব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী,রেল মন্ত্রী, রেল সচিব, জেলা প্রশাসক বরাবর জনগনকে সাথে নিয়ে স্মারকলিপি জমা দেব। এবং আমরা রেলপথের দাবীগুলো তাদের কাছে তুলে ধরতে জনগনকে সাথে নিয়েই কাজ করব,।