চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) আইএমএফ প্রতিনিধিদল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ।
বাংলাদেশকে ঋণ দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকে কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ। গত জুলাইয়ে ঋণ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল আইএমএফের কাছে।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বার্ষিক সভায় ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার এক ফাঁকে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন দল আইএমএফের সঙ্গে এক দফা আলোচনাও করলেও চূড়ান্ত কিছু হয়নি।
ঋণ পেতে হলে বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। ঋণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল ঢাকায় আসে আইএমএফের একটি দল।
আইএমএফের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থানকালে সরকারের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে বৈঠক করবে প্রতিনিধি দলটি। এরই অংশ হিসেবে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিনিধি দলটির বৈঠক হয়।
বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রথম পর্বের বৈঠকে বাংলাদেশকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার যে আশ্বাস রয়েছে, সেটি নিয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।’
বৈঠকে শর্ত না দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আইএমএফ কোনও শর্ত দেয়নি। তবে আর্থিক খাতের সংস্কার, নীতি ও ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
আবুল কালাম বলেন, বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলারের ভিন্ন ভিন্ন রেট সম্পর্কে জানতে চায়। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের রেট ৯৭ টাকা আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রেট বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সামনের বৈঠকে রিসেন্ট মনিটরি ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড আউটলুক, ইন্টারেস্ট রেট ডেভলপমেন্ট, সরকারি বন্ড, মনিটরি এক্সচেঞ্জ রেট, রিসার্চ ডেভলপমেন্ট, ব্যাংকিং ইস্যুস, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট, এক্সটার্নাল লোন ডিসবার্সমেন্ট আইএমএফ টিএ রিপোর্টস, রিসেন্ট ট্রেড পারফরমেন্স, রিসেন্ট এক্সচেঞ্জ পারফরমেন্স, রিস্ক বেইসড সুপারভিসন এবং টেকনিক্যাল মিটিং অন এএমএল ইত্যাদি বিষয়ে বিষদ আলোচনা হবে।