নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা :
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২০ জুলাই রোজ বৃহস্পতিবার সময় আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টায় এ ঘটনা ঘটে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।এলাকাবাসী প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায় উক্ত স্কুলের পিয়ন মোঃ মাসুম হোসেন (৩৫),পিতা খুদু প্রাং বান্দাইখাড়া, এই নেক্কার জনক ঘটনাটি ঘটায়।তথ্য সূত্রে আরও জানা যায় একই গ্রামের মোঃ বুদু মিয়ার মেয়ে মোছাঃ রিয়া আক্তার (২৫) সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক করে আসছিলেন অভিযুক্ত মাসুম।প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মেয়েটিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেয়ে শারীরিক মিলামেশা করত।
তারই ধারাবাহিকতায় সে তার কর্মস্থান তথা স্কুলের দ্বিতীয় তলায় মেয়েটিকে নিয়ে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিয়ে অশ্লীল কার্যক্রম শুরু করে।এমতাবস্থায় কয়েকজন যুবক বিষয়টি টের পেয়ে বাহির থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে মানুষজনকে অনেকে ছুটে আসে এবং তাদের হাতে নাতে আটক করে।পরবর্তীতে স্কুলের সভাপতি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসে দরজা খুলে তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ হোসেনের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে উনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।সেই সাথে উনি বলেন আমি এবং স্কুলের সভাপতি এসে তাদের কৌশলে দ্রুত স্কুল থেকে বের করে দেই।স্কুলের সম্মানার্থে,
পরবর্তীতে আমি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সবাইকে নিয়ে মিটিং করেছি এবং বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসে জানিয়েছি।কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নেক্কার জনক ঘটনা যা কোন ভাবেই মেনে নেওয়ার মত নয়।আমার স্কুলের মান সম্মান সে ধুলোই মিশিয়ে দিয়েছে।ঘটনার ঐ দিনেই আমি তার কাছ থেকে স্কুলের তালার চাবি গুলো নিয়ে নিয়েছি এবং তাকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হাওয়া পর্যন্ত স্কুলে আসতে নিষেধ করেছি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য অভিযুক্ত মাসুমের মুঠো- ফোনে কল দেওয়া হলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং সংবাদ প্রকাশ করতে বার বার না করেন।সেই সাথে অপরপ্রান্ত থেকে দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃআব্দুল খালেক বিশা'র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমি কিছু জানি না আমি এলাকার একজন প্রতিনিধি আমাকে এত বড় ঘটনা ঘটেছে কেউ এখন পর্যন্ত জানানি লোক মুখে শুনেছি। আমি প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাথে বসার পর বিস্তারিত জানতে পারবো।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাজহারুল ইসলাম (প্রাথমিক) ভাবে কথা বলা হলে উনি বলেন,ঘটনাটি আমাকে মৌখিক ভাবে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জেনেছি।আমি ১টি লিখিত অভিযোগ পত্র চেয়েছি উনি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যদের সাথে মিটিং করে আমায় দ্রুত দিবে বলেছেন।
উনি (প্রধান শিক্ষক)যদি লিখিত অভিযোগ পত্র না দেন সেই ক্ষেত্রে আপনার কি করণীয় আছে?সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে উনি বলেন, এত বড় একটি ঘটনা ঘটেছে প্রধান শিক্ষক কেন আমাকে লিখিত অভিযোগ পত্র দিবে না? আর হ্যাঁ, উনি যদি লিখিত অভিযোগ পত্র আমার কাছে জমা না দেয় তাহলে উনার (প্রধান শিক্ষক) বিরুদ্ধে ও ব্যবস্থা নেয়া হবে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে আত্রাই থানার অফিসার্স ইনচার্জের সাথে কথা বলা হলে উনি বলেন,আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং ঘটনা সম্পর্কে মৌখিকভাবে জেনেছি।তবে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি, লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী মেয়ের ও তার পরিবার থানায় অভিযোগ ও অপরিচিত নম্বর থেকে
ফোন এলে কথা বলা নিষেধ থাকায় তাদের জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার জনসাধারণ
এ ঘটনার সঠিক বিচার চেয়েছেন।সেই সাথে অভিযোগ করে বলেছেন,এ ঘটনাটি উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির কিছু অসাধু লোকজন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।