আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আশাশুনির আনুলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আ'লীগের দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ও আ'লীগের কর্মী সমর্থকদের মারপিট করেছে বিএনপি জামায়াতের সমর্থকরা। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনুলিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। প্রতক্ষ্যদর্শী ওই ওয়ার্ড আ'লীগের সহ-সভাপতি আবু সাঈদ জানান - আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আ'লীগ নেতা কর্মীদের এলাকা ছাড়া করার জন্য কাজল শেখের ছেলে সরকার বিরোধী শক্তির মদদ দাতা শেখ জালাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় লোকজন নিয়ে পাঁয়তারা করছে। তার জের ধরে রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জালাল উদ্দিনের মদদে রাজাপুর গ্রামের মৃত মোশাররফ ঢালীর ছেলে হত্যা ও নাশকতা মামলার আসামি মোশাররফ ঢালী মোশা ও উঃ একসরা গ্রামের মৃত ফজলু ঢালীর ছেলে শাহীনুর ঢালীর নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের বিএনপি জামাতের একটি সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল এসে আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুর করে টিনের বেড়া কাটতে শুরু করে। ভাংচুরের শব্দে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আমরা কয়েকজন কর্মী ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমি সহ আমাদের ১০ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। আহতরা হলেন রাজাপুর গ্রামের সিরাজুল সরদার, আনারুল সানা, মনিরুল ইসলাম, মফিজুল সানা, শফিকুল সানা, সিদ্দিক সানা, আলাউদ্দিন সানা, মাসুরা খাতুন, হামিদা খাতুন আহত হয়েছে। আহতদের আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ইট পাটকেলের আঘাতে অপরপক্ষের সুরাইয়া পারভীন সহ আরও ৫ জন আহত বলে জানা গেছে। এদিকে আ'লীগ অফিসে হামলার খবর পেয়ে আশাশুনি থানা পুলিশের এস আই ইমরান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য এটিএম হোসেন জানান জামায়াত বিএনপির মদদদাতা জালাল উদ্দিন এলাকায় এসে সরকার বিরোধীদের জড়ো করে বিভিন্ন সময়ে আ'লীগের সমর্থকদের মারপিট করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। তার ইন্ধনেই এ আ'লীগের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইউনিয়ন আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার জানান- সরকার বিরোধীরা আবার একজোট হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে আ'লীগের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ ঘটনায় আনুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন জানান - ২০১০ সাল থেকে ওখানে আওয়ামীলীগের অফিস চলছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে জালাল উদ্দিন এলাকায় এসে সরকার বিরোধীদের এজেণ্ডা বাস্তবায়ন করতে বিএনপি-জামাতকে অর্থ জোগান দিয়ে যাচ্ছে এবং নাশকতা ও হত্যা মামলার আসামিদেরকে এলাকায় এনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হতে চাচ্ছে। আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর ও নেতাকর্মীদের উপর হামলার জন্য উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের পরামর্শ নিয়ে থানায় এজাহার দাখিল করব। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম (পিপিএম) আনুলিয়ায় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। এখনো কেউই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।