তন্ময় দেবনাথ
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ভুয়া চিকিৎসকদের রমরমা বাণিজ্য চলছে। কম্পাউন্ডার থেকে অনেকে চিকিৎসক হয়েছেন। তাদের অপচিকিৎসায় প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও অসুস্থ সেই সঙ্গে ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার ফতেপুর বাউসার প্রেমতলি বাজারে ছোট্ট ঘরে চেম্বার খুলে বসেছেন কমিউনিটি ক্লিনিক হেল্থকেয়ার আসাদুল ইসলাম। দোকান ঘরে রাখেনি কোন সাইনবোর্ড। করোনা রোগী (করোনা মহামারী সময়ে)থেকে শুরু করে প্রসূতি মায়েদের, শিশু, বয়স্ক সহ সব রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন তিনি। ৫০ টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখেন প্রতিনিয়ত, আগত রেগীদের লিখে দেন ঔষধের প্রেসক্রিপশন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ধন্দহ পশ্চিম পাড়া গ্রামের মো: সাদেক মহুরী ছেলে আসাদুল ইসলাম। দিঘা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করেন তিনি । গ্রামের সহজ সরল জনসাধারণ ডাক্তার ভেবে আসাদুলের কাছে চিকিৎসা নিতে এসে রিতিমতো হচ্ছেন ভুল চিকিৎসার প্রতারনার শিকার। দীর্ঘদিন ধরেই চলছে তার এই ডাক্তার সেজে প্রতারণা।
ভূয়া ডাক্তার আসাদুলের কাছে চিকিৎসা নিতে রোগীদের কাছে জানতে চাইলে তারা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমরা তো দেখেছি তিনি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের ডাক্তার। এজন্য বিভিন্ন রোগের সমস্যা নিয়ে এসেছি। তিনি ৫০ টাকা ফি নিয়ে আমাদের ডাক্তারির প্রেসক্রিপশন করে দেন। প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে অন্য দোকান থেকে ঔষধ ক্রয় করি।
এই বিষয়ে জানতে স্থানীয় বাজারের ঔষধের দোকান গুলোতে গেলে তারা জানান, আসাদুল ইসলাম দিঘা কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার। নিজেকে পরিচয় দেয় ডাক্তার এবং প্রেসক্রিপশন করে। মাঝে মধ্যেই রুগীদের ভুল চিকিৎসা দিয়ে প্রেসক্রিপশন করেন। তবে আমাদের নাম প্রকাশ করেন না বলে অনুরোধ জানায় প্রতিবেদককে।
এ বিষয়ে আসাদুল ইসলাম এর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পপ কর্মকর্তা মো,আসাদুল ইসলাম আসাদ বলেন, তিনি ডাক্তার লিখতে পারবেন না।তবে পরামর্শ দিতে পারবেন। সঠিক অভিযোগ পেলে আমি ব্যবস্থা নিব।
এসব চিকিৎসক সম্পর্কে রাজশাহী সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, প্রথমত আপনারা জানেন ডাক্তার ও প্রেসক্রাইব
লিখতে পারবে না। আপনারা বাঘার স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন প্রয়োজন হলে আমার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন।