তন্ময় রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ভাসমান দোকান ও যানবাহন স্ট্যান্ড এর ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, আর এই যানজটে অতিষ্ঠ জনজীবন। উপজেলাধীন বাঘা বাজার, বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর ও আড়ানী বাজারে চিত্রটি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসকল বাজারে ফুটপাতসহ সড়ক দখল করে উভয় পাশে হাটের দিন বসে সবজি বাজার। এছাড়াও বাঘা বাজার, বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর ও আড়ানী পৌর বাজারে বসেছে বেশ কিছু ফলের দোকান ও সিএনজি এবং অটোরিকশা (ভ্যানগাড়ী) স্ট্যান্ড। ফলে সড়ক গুলোতে যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপকভাবে। বহুদিন ধরে এ অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
দেখা মিলে, আড়ানী পৌর বাজার তালতলা থেকে মাছ বাজারের সামনের অংশ পর্যন্ত বাজারের প্রায় ২০০ মিটার এলাকা এখন দখল করে রেখেছেন বিভিন্ন দোকানদার। সেখানে বসেছে ভাসমান ৩০-৪০ টি শাকসবজি, ফলমূল, তরিতরকারি সহ মাছের দোকান। আরও অনেককে জায়গা না পাওয়াতে তারা মালামাল নিয়ে বসে পড়েছেন রাস্তার ওপরই। এতে করে সরকারি ১০ ফিট প্রস্থের রাস্তা এখন ৫ ফিটে পরিনত হয়েছে। এর ফলে সাধারণ পথচারীরা পরেছে বিরম্বনা। আড়ানী তালতলার মোড়টি তিনটি সড়কের কেন্দ্রবিন্দু। পুঠিয়া, আড়ানী রেল স্টেশন ও বাঘা উপজেলা সদর যাতায়াতের রাস্তা এটি। পুঠিয়া – বাঘা গামী বড় বড় ট্রাক ও ভারী যানবাহন,সিএনজি, অটোভ্যান,মোটরসাইকেল চলাচল করে এই সড়ক দিয়েই। এছাড়াও আড়ানী রেল স্টেশনে যাতায়াতে এই রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয় । কিন্তু তালতলার মোড়ে বড় গাড়ীগুলো মোড় ফিরতে রাস্তার উপর বেশ কিছু সবজি দোকান, ও অটোরিকশা রাখায় প্রতিনিয়ত যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যানজটের সৃষ্টিসহ ঘনঘন ছোট বড় সড়ক দূর্ঘটনার দেখা মিলছে । এছাড়াও আড়ানী গুড় বাজারে গাড়ি লোড আনলোডের কারণে অধিকাংশ সময় এই রাস্তাটাতে যানজট লেগেয় থাকে।
এদিকে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাঘা বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরটি সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড (ভ্রাম্যমাণ) এ পরিণত হয়েছে। এই মোড়টি চারটি সড়কের সংযোগ পথ। সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড রাস্তার দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে রাখে। ফলে অবশিষ্ট যে জায়গা থাকে তাতে কোন যান চলাচলের মতো জায়গা থাকে না এবং অল্পতেই সৃষ্টি হয় যানজট ও দূর্ঘটনা। সেই সাথে এই সকল যানবাহনের চালকদের সঙ্গে বিবাদ সৃষ্টি হয় পথচারীদের।
অপর দিকে বাঘা বাজারে দেখা যায়, হাটের দিন ছাড়াও অন্যদিন গুলো তে বেশ কিছু ভাসমান দোকান বসে রাস্তার পাশদিয়ে এবং রাস্তা দখল করে বসে আছে কিছু ফলে দোকান। এছাড়াও মাজার গেটের সামনে নির্দিষ্ট সময়েও ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন না হওয়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারীরা স্থানীয় জনসাধারণ । কিছুক্ষণ পর পর যানজট লেগেয় থাকছে বাঘা বাজারের রাস্তায়।
বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর দিয়ে চলাচলকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, পাকা রাস্তা ও ফুটপাতের অংশে দোকানীদের উচ্ছেদ, সিএনজি ও অটোরিকশা অবৈধ স্ট্যান্ড না থাকলে যান চলাচল অনেক সহজ হবে।পথচারী যাত্রীদের দুর্ভোগ কমে যাবে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটি দখলমুক্ত করার দাবী জানান।
বাঘা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, হাটের দুই দিন সড়কের উভয় পাশে রাস্তা দখল করে দোকান দারেরা বসে। আর রাস্তার পাশে ভাসমান বিভিন্ন দোকানদারের তো আছেই। এতে পথচারীদের অনেক ভোগান্তিতে পরতে হয়। আবার বাঘা বাজারের পূর্ব পার্শ্ব থেকে পশ্চিমে বঙ্গবন্ধু চত্বর পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেনেজ কাজ শেষ না হওয়ায় লম্বা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ করছে না । এই জন্য আরও বিভ্রান্তিতে পরতে হচ্ছে।
আড়ানী বাজারের একাধিক পথচারী জানান, এই পথেই আমাদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ফুটপাতের পুরো অংশেই বাজার বসে গেছে। হেঁটে চলাচলের আর কোনো উপায় নেই। ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গিয়ে ভিড়ের কারণে সামনে এগোতে পারছিলেন না এক পথচারী। তিনি বলেন, ফুটপাতের যেটুকু অংশ ফাঁকা আছে, সেটা তো লোকজনের চলাচলের জন্য নয়। ওই অংশটা হলো ক্রেতাদের দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করার জন্য। রাস্তার ওপর দোকান, মূল সড়কে হেঁটে চলা মানুষ, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা—সব মিলিয়ে একটা প্রচণ্ড বিশৃঙ্খল অবস্থা। একটু পর পর লেগে যায় যানজট। বাজারের মেন পয়েন্ট এই মোড় এছাড়াও মোড়ে একটি বাক রয়েছে এমন একটি স্থানে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে কাঁচাবাজার গড়ে ওঠায় জনসাধারণের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যার প্রতিকার চান তারা।
এ বিষয়ে আড়ানী পৌর মেয়র মোঃ মুক্তার আলী জানান, বিষয়টি আমি অবগত হলাম। অতি শীঘ্রই পৌর আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলীকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার জানান, জনগণের দুর্ভোগ নিরসনের বিষয় টা খেয়াল রেখে হাট-বাজারের দিনে যানজট কমাতে পুলিশ ও আনসার সদস্য নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। তবে রাস্তার কাজ শেষ হলেই কেবল এই ভোগান্তি থেকে জনগণ মুক্তি পাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। আড়ানী বাজারের বটতলার মোড়ের দোকানিদের কয়েকবার নোটিশ সহ সরজমিনে গিয়েও বুঝানো হয়েছে। আগামীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।