স্টাফ রিপোর্টার:
গত ১৫ ই মে ২০২৩ইং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ শাহীন আলম (৪৩) পিতাঃ মৃত আব্দুল আউয়াল মীর, গ্রামঃ হাজীগাও, থানাঃ সিরাজদিখান জেলাঃ মুন্সীগঞ্জ এর নামে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত খবর সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহীন আলম জানান, ২০২১ সালে ফেসবুকে শারমিন আক্তার (২৪) পিতা: শাসুদ্দিন গ্রাম: ৩ নং উত্তর সুজালপুর গোরস্তানপাড়া, থানা: বীরগঞ্জ পৌরসভা, বীরগঞ্জ জেলা: দিনাজপুর এর সাথে পরিচয়ের জের ধরে একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ফোনে উভয়ের মধ্যে মতবিনিময় হয়। দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেন শাহীন আলম বাংলাদেশে আসার পর একে অপরকে বিয়ে করবেন, কিন্তু এর মাঝে হঠাৎ করেই শারমিন আক্তার এর নাকে সমস্যা দেখা দেয় এবং তা কসমেটিক সার্জারির জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেন শারমিন আক্তার ।
শুধুমাত্র প্রেমের সম্পর্ক থাকায় শাহীন আলম টাকা দিতে রাজি হননি, তাই প্রেমে বিশ্বাস অটুট রাখার জন্য শারমিন আক্তার শাহীন আলমকে ফোনে বিয়ের প্রস্তাব দেন, যেহেতু দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান তাই শাহীন আলম বিয়েতে রাজি হন। শাহীন আলম মালয়েশিয়ায় থাকায় ২৭ মার্চ ২০২২ তারিখ শারমিন আক্তার ঢাকা কাজলার পার কাজী অফিসে ফোন কলের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করেন এবং নাকের অস্ত্রোপচারের জন্য টাকা নেন।
এরপর গত ৩ এপ্রিল ২০২২ তারিখে বাংলাদেশ কসমেটিক সার্জারী ধানমন্ডি শাখায় নাকের কসমেটিক সার্জারি করেন। এরপর থেকেই শারমিন আখতার বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে এবং অসুস্থতার কথা বলে প্রায় ৬ লক্ষ্য টাকার মত হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত শারমিন আক্তার।
এরপর প্রবাশি শাহীন আলম ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশে আসেন এবং তারা দুজন একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তার কিছুদিন পর শাহীন আলম ব্রাক ব্যাংক এ একাউন্ট খোলার জন্য যায় এবং নমিনি হিসেবে স্ত্রী শারমিন আক্তারকে মনোনিত করেন। অতঃপর নমিনির কাগজপত্র জমা দিলে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে স্বামীর নামের কোনো মিল নেই এবং ব্যাংকের সার্ভারে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে শারমিন আক্তারের স্বামীর নামের পরিবর্তে অন্য একজনের নাম দেয়া আছে।
শাহিন আলম কথাটি বিশ্বাস না করলে ব্যাংক ম্যানেজার নিজেই একটা কপি প্রিন্ট করে শাহীন আলম এর হাতে দেয়। তারপর শাহীন আলম জানতে পারে শারমিন আক্তার এর আগেও একটি বিয়ে করেছিলেন। এরপর শাহীন আলম শারমিন আক্তার এর কাছে বাড়িতে গিয়ে তার আগের স্বামীর কাছ থেকে ডিভোর্সের কপি চাইলে শারমিন আক্তার তা শাহীন আলমকে দেন। কিন্তু ডিভোর্স প্রদানের
এর তারিখ ছিল গত ১৭ এপ্রিল ২০২২ ইং তারিখ যা তাদের বিয়ের আনুমানিক ২২ দিন পর।
আবার শাহীন আলম মালায়শিয়া ফিরে যাওয়ার পর প্রতিবেশীর ফোন কলে জানতে পারে শারমিন আক্তার তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর সাথে রাত্রী যাপনও করে ২ দিন ২ রাত। যা শরিয়ত ও সমাজ বিরোধী কাজ। আবার শাহীন আলম যখন মালেশিয়ায় ফিরে যায় তখন যাবার আগেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিতরে ঢোকার আগে শারমিন আক্তার ও তার ভাই কাঈয়ুম এর কাছে ৫ লক্ষ্য ৭২ হাজার টাকা নগদ দিয়ে যায় জমি ক্রয় করার জন্য, কিন্তু এখন শারমিন আক্তার কাছে সে টাকার ও কোন হিসেব নেই বলে জানা যায়। শাহীন আলম মায়াশিয়া যাওয়ার পর তার স্ত্রী শারমিন আক্তার এর কিছু ফটো সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এ পোস্ট করলে তা অশ্লীল বলে দাবী করে শারমিন আক্তার। এরপর শাহীন আলমকে একজন বাক্তি ফেসবুকে মেসেজ করে তার মালেশিয়ার নাম্বার চাইলে তিনি তা দেন এবং ফোন করলে একটা ইতালির ফোন নম্বর থেকে কথা বলে সেই ব্যক্তি ফেজবুক মেসেঞ্জার চেক করতে বলে। মেসেঞ্জার চেক করলে দেখা যায় শারমিন এর কিছু অস্লিল ভিডিও। এসব দেখার পর শারমিন আক্তারকে ফোন দিলে শারমিন আক্তার শাহীন আলমকে ইমো, হোয়াটসএ্যাপ, ফেজবুক সহ সমস্ত যোগাযোগের মাধ্যম থেকে ব্লক করে দেয়।
এমন সময় শাহীন আলম শারমিন আক্তার এর বাবা ভাই কে ফোনে সব জানালে তারা তা অন্য দিকে ঘুরিয়ে উল্টা শাহীন আলমকে গালি গালাজ শুরু করে। এবং ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ তারিখে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত শাহীন আলম এর এক ছোট ভাই সুমনকে শারমিন আক্তার কল দিয়ে বলে সে বাড়ি ফিরে যাবে এবং শাহীন আলমকে তালাক দিয়ে দিবে। শাহীন আলম শারমিনকে যে টাকা, স্বর্নালংকার সহ আসবাব পত্র দিয়েছিল তার বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে সব বিক্রি করে দিয়েছি।
এ পর্যন্ত শারমিন আক্তার সব কিছু মিলিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়। উক্ত টাকা শাহীন আলম কে ফেরৎ না দিয়েই উল্টা ১৫ লক্ষ্য টাকা দাবি করে শারমিন আক্তার।
এমনকি ১৫ লক্ষ্য টাকা না দিলে মামলা হামলা সহ দেশে ফিরে এলে খুনের হুমকিও দিয়েছেন অভিযুক্ত অর্থলোভী নারী শারমিন আক্তার।
শাহিন আলম মালয়েশিয়া প্রবাসী ফোন:- ০০৬০ ১৪৯২০২০২০