রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে লাহোর। চারদিকে থৈ থৈ করছে জল। ডুবে গেছে রাস্তা। পানিতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকাগুলো। অতিবৃষ্টিতে শহরে শুরু হয়েছে বন্যা। বুধবার লাহোরে নয় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৭২ মিলিমিটার। খবর ডন।
বন্যা-বৃষ্টি-ভূমিধসে আরও ভয়ঙ্কর অবস্থা চীনে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেখা দিয়েছে প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধস। টানা বৃষ্টিতে নাকাল জনজীবন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া বুধবার জানিয়েছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ আরও চারজন। তবে এখনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি লাহোরে। পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মহসিন নকভি জানান, লাহোরে ‘নালাগুলোও উপচে পড়েছে’। মন্ত্রিসভার সব সদস্য ও প্রশাসন বৃষ্টির পানি অপসারণে মাঠে নেমেছে বলে জানান তিনি। ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন এজেন্সি (ওয়াসা) জানিয়েছে, লাহোরের লাক্সমী চক এলাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে ২৩৬ মিমি। লাহোরে আগামী ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস।
মঙ্গলবার খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গাছপালা পড়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) কেপি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। নিহতদের দুজন শাংলা ও অন্যজন কারাকে তাদের এ প্রাণ হারিয়েছে। বিবৃতিতে আরও সাতজন আহত ও ছয়টিরও বেশি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের চেয়েও ভয়ঙ্কর অবস্থায় পড়েছে চীন। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় জনগণের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব দিতে হবে সামনে থেকে। জনগণের নিরাপত্তার পাশাপাশি সম্পদ রক্ষা করতে হবে। যতটা সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
আকস্মিক বন্যায় গুরুত্বপূর্ণ পথ-ঘাট তলিয়ে চলা ফেরায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী সিচুয়ান প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মাসে প্রবল বর্ষণের কারণে ৪ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ৮৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সপ্তাহে কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।