লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে স্ত্রী হোসনে আরা (২৪)কে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে জোবাইদুল (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
একই মামলায় আরও তিনজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন, জোবাইদুলের মা জোবেদা বেগম, বড় ভাই ফজল আলী ও বাবা আব্দুস সালাম। দণ্ডপ্রাপ্ত জোবাইদুল কালীগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট বানিনগর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।
মামলার এজাহার, বাদী ও আদালত সূত্র জানায়, ২০১২ সালের দিকে একই গ্রামের জোবাইদুল ইসলামের সাথে হোসনে আরার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে জন্ম হয়। এরপর জোবাইদুল পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়লে স্ত্রী হোসনে আরার সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়, এসব নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। এর জেরে জোবাইদুল ও তার পরিবারের লোকজনসহ নির্যাতন শুরু করেন। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো লাভ হয়নি।
২০১৭ সালের ২৩ জুলাই রাতে শ্বশুরবাড়ির পাশের নালায় হোসেনে আরার মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় হোসনে আরার মামা মোমিন মিয়া পরদিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন৷ এতে হোসনে আরার স্বামী জোবাইদুল ইসলামকে প্রধান করে, শাশুড়ি জোবেদা খাতুন, ভাসুর ফজল আলী এবং জোবাইদুলের বাবা আব্দুস সালামকে আসামি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কেএম হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত জোবাইদুলকে ৩০২ ধারায় এ সাজা দেন। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় বাকি আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোমিন মিয়া। তিনি বলেন, আমার ভাগ্নিকে তার স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর ও ভাসুর মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। রায়ে শুধু একজনের কারাদণ্ড হয়েছে, বাকিরা খালাস পেয়েছে। তাই আমি খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।