লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামে ধরলা নদী থেকে অবৈধ বোমা মেশিন বসিয়ে রাতের আধাঁরে বালু ও পাথর উত্তোলন চলছে দেদারছে।তীব্র নদী ভাঙ্গন, ভূমি ধ্বসের পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছে স্থানীয়রা। পাটগ্রাম উপজেলার ধরলা নদী থেকে প্রতি রাতে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর ও বালু উত্তোলন চলছে দেদারছে, নদীর ভূগর্ভস্থ থেকে বোমা মেশিনের সাহায্যে এসব পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে,ফলে নদীর বিভিন্ন জায়গায় গভীর খানা খন্দ সৃষ্টি হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে।
এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র নদী ভাঙ্গনের ফলে বসতবাড়ি ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে।বোমা মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে বড় ধরনের ভুমি ধ্বসের আশাংকা তৈরী হয়েছে পাটগ্রাম উপজেলার আশে পাশে। অভিযোগ রয়েছে অসাধু বালু ও পাথর উত্তোলন কারীরা প্রশাসন কে মেনেজ করে এই বোমা মেশিন চালাচ্ছেন। প্রতি মেশিনের জন্য এক রাতে ১৪,০০০ টাকা গুনে দেন প্রশাসন কে, বিষয়টি স্বীকার করে(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক মেশিন মালিক।এই টাকা সংগ্রহ করছে প্রশাসনের নিয়োজিত একাধিক সোর্স।
পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি,কুচলিবাড়ি,শ্রীরামপুর ইউনিয়ন ও পাটগ্রাম পৌর এলাকায় মোট ৩২টি বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।পাটগ্রাম ইউনিয়নের মেছির পার এলাকায় ফারুখ, হরিসভা এলাকায় খলিল,বুলেট, সামীম মেম্বার,মসজিদ পারে মিল্লাত,প্রধান পাড়ায় আমিন, মাঝি পাড়া এলাকায় রিজু,চিলার বাজার এলাকায় রুমোন কালাম মাষ্টার, পেদির বাড়ী এলাকায় সাফিউল,রাসেল ও দেলোয়ার, মাশান টারী এলাকায় রবিউল মেম্বার,শাহীন ও নুরজামান। বুড়িমারি ইউনিয়নের উফারমারা এলাকায় ছোট বাউ,ঘুন্টি এলাকায় রাশেদ,মিনহাজ,তরিকুল,কুচলিবাড়ী ইউনিয়নে রাজীব সহ শ্রীরামপুর ইউনিয়নে একাধিক বোমা মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান (ভারপ্রাপ্ত) অবৈধ বোমা মেশিন দিয়ে পাথর ও বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে বলেন,পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসন এই ব্যাপারে সজাগ রয়েছে,আমরা তথ্য পেলেই সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি,যারাই এই কাজে সম্পৃক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রসুল বলেন বোমা মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে,বোমা মেশিন দিয়ে যারাই বালু ও পাথর উত্তোলনের চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।এ বিষয় পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বিষয় টি কথা বললে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।