হাসান চৌধুরী, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
স্থানীয়দের দাবি উপেক্ষা করে শত বছরের পুরনো সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নং সয়দাবাদ ইউনিয়নের পোরাবাড়ী মহা-শ্বশান ও কালী মন্দিরে যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে এক পরিবারের বিরুদ্ধে। সয়দাবাদ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত জামতৈল দাস মৌজার জে,এল নং ২০৭ আর,এস নং ০১ আরএস নং ২৮২, জমির পরিমান ছয় শতক উক্ত জমি পোরাবাড়ী গ্রামসহ এর পার্শ্ববর্তী জারিলা, কড্ডা,খিদির,দুখিয়াবাড়ী গ্রামের হিন্দু ধর্মালম্বীরা মহা-শ্মশানে মৃত দেহ নিয়ে সৎকারের জন্য প্রায় একশো বছরের অধিককাল যাবৎ রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। এক বছর পূর্বে পোরাবাড়ী মহা-শ্মশানের পার্শ্বে হুরা সাগর নদীর উপর দিয়ে ব্রীজ নির্মানের সময় উক্ত ব্রীজ নির্মানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিন্দু ধর্মালম্বীর সাথে স্থানান্তরের শর্ত সাপেক্ষে উক্ত খাস জমির উপরে একটি টিনসেট বিল্ডিং ঘর অস্থায়ী ভাবে স্থাপন করে। কিন্তু ব্রীজ নির্মানের কাজ শেষে খাস জমির পাশের ভূমি মালিক মৃত ইউনুছ আলীর দুই সন্তান মোঃ হাফিজুল ও মোঃ আওয়াল অস্থায়ী টিনসেট বিল্ডিং ঘরের জমি নিজস্ব দাবী করে এবং স্থাপনাটি স্থানান্তরের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাধা দিয়ে পুরো খাস জমিটি বাশের বেড়া দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে। দখলের পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃতদেহ সৎকারের জন্য ব্যবহৃত এই রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে,আমরা অত্র এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় বাধা করিলে আমাদের আশ্বাস দেয় যে,ব্রীজের কাজ শেষ হইলে আমরা উক্ত স্থাপনা সরিয়ে ফেলবে। কিন্তু ব্রীজের কাজ শেষ হওয়ার পরেও উল্লেখিত স্থাপনাটি এখন পর্যন্ত নির্মাণাধীন অবস্থায় রেখে আমাদের বৃহত হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচটি গ্রামের জনসাধারণের এই মহা শ্মশানের রাস্তা বন্ধ রেখেছে। রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় এই বর্ষা মৌসুমে মৃতদেহ প্রবাহমান হুরা সাগরে পানি মধ্যে দিয়ে সৎকারের জন্য নেওয়া হয়েছে যা আমাদের দুর্বিসহ কষ্টকর। এব্যাপারে আমরা হিন্দু সম্প্রদায় হাফিজুল ও আওয়ালের সাথে রাস্তার ব্যাপারে কথা বললে সংখ্যালঘু বলে বিভিন্ন হুমকি দেয়। এবং হাফিজুল ও আওয়াল বলেন এ রাস্তা সরকারের খাষ সম্পত্তি সরকার আমাদের লীজ দিয়েছে তাই এই জমি ও রাস্তা অন্যদের ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
পোড়াবাড়ী পূজা উদযাপন ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি রামেন্দ্র নাথ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সোনাতন সুত্রধর বলেন, পোরাবাড়ী (উত্তর) হিন্দু অধ্যুসিত একটি বৃহৎ গ্রাম।পোড়াবাড়ী সহ অত্র আশ-পাশের গ্রামের সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের সৎকারের কাজ এই পোড়াবাড়ী মহা-শ্মশানে সম্পন্ন হয়।সয়দাবাদ ইউনিয়ন থেকে টিআর প্রকল্পে এই শ্মশানের রাস্তার সংস্কার করা হয়। কিন্তু শ্মশানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হুরা সাগর নদীর উপরে ব্রীজ নির্মাণ শুরু হয়। ব্রীজ নির্মানকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে শর্ত সাপেক্ষে এই স্থানান্তরিত ঘরের আবেদন করেন এবং নির্মাণ করেন।কিন্তু শ্মশানের কাজে ব্যবহৃত ছয় শতক খাস জমির পাশের জমি মালিক হাফিজুল ও আওয়াল নিজেদের দাবী করে জোরপূর্বক দখল করে। এখন সেই জমিটি নিয়ে একটি মামলা হয়েছে এবং চলমান রয়েছে।