আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৮৯ আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে জাতীয় পার্টি। তবে মনোনয়ন ফরম না তোলায় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। দলীয় কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত না থাকায় জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত পিরোজপুর-৩ আসনের বর্তমান সংসদ-সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজিকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ অন্যান্য বহিষ্কৃত এবার জাতীয় পার্টির টিকিট পাননি। মনোনয়ন না চাওয়ায় রওশন এরশাদের ছেলে ও রংপুর-৩ আসনের বর্তমান সংসদ-সদস্য রাহগির আল মাহি সাদকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের রংপুর-৩ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের টিকিট পেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপিকে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি এই আসন থেকে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হন। দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চট্টগ্রাম-৫, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১, কাজী ফিরোজ রশীদ ঢাকা-৬, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সংসদ-সদস্যদের মধ্যে সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ঠাকুরগাঁও-৩, গোলাম কিবরিয়া টিপু বরিশাল-৩, ফখরুল ইমাম ময়মনসিংহ-৮ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া নাসরিন জাহান রতনা বরিশাল-৬, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফেনী-৩, রানা মোহাম্মদ সোহেল নীলফামারী-৩, লিয়াকত হোসেন খোকা নারায়ণগঞ্জ-৩, পনির উদ্দিন আহমেদ কুড়িগ্রাম-২, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়া-২, নুরুল ইসলাম তালুকদার বগুড়া-৩, পীর ফজলুর রহমান সুনামগঞ্জ-৪, আহসান আদেলুর রহমান নীলফামারী-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন। ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী হয়েছেন জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদের।
সোমবার পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু মনোনয়ন ঘোষণা করেন। জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রওশন এরশাদের আসন ফাঁকা রাখার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, রওশন এরশাদ এখনও দলের মনোনয়ন ফরম নেননি। তবে তিনটি ফরম রাখতে বলেছেন। আমরা তা রেখেছি। ময়মনসিংহ-৪ আসন খালি রাখা হয়েছে, এটা তার আসন। রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ সম্পর্কে মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সে আমাদের কাছে ফরম চায়নি। পিরোজপুর-৩ আসনে ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী কয়েক বছর ধরে দলের কার্যক্রমে সক্রিয় নন। সংসদেও দলের পক্ষে খুব বেশি কথা বলেননি। দলের প্রতি আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ থাকায় এবার ওনাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ২৮৯ জন ছাড়া বাকি আসনের বিষয়ে মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বাকি আসনের বিষয়ে পরে জানানো হবে। এর মধ্যে ২-৩টি আসনে প্রার্থী পাওয়া যায়নি।
এর আগে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২০ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে জাতীয় পার্টি। ২৩ নভেম্বর ছিল ফরম বিক্রির শেষ দিন। পরে তা একদিন বাড়ানো হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনে এক হাজার ৭৩৭টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে দলটি। গত ২৪-২৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলে আট বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিশনে দল মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে।