খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ-
খুলনায় দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ৮ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৬ জন। এখানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ১২টি। হাসপাতালে শয্যা সংকটে ডেঙ্গু রোগীদের সেবা নিতে সমস্যা হচ্ছে। আর ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। খুমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় পাঁচটি মেডিসিন ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা। হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে বেড মিলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে মাদুর, কাঁথা, বালিশ বিছিয়ে বারান্দার ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে রোগীর সঙ্গে স্বজনরাও আসেন। এতে উভয়কেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ রোগীদের পাশে মশারি টাঙিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদেরও রাখা হচ্ছে। তাদের আলাদা ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়। খুমেক হাসপাতালের সূত্র মতে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ৭ নভেম্বর সকালে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ২১ জন। যা এ বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আক্রান্তদের মধ্যে খুলনা নগরীর একজন বাসিন্দা রয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বাসিন্দা। আর ৮ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালে ভর্তি ৬৬ জন। গত এক সপ্তাহে খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১০৫ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। তাদের মধ্যে গত ১ নভেম্বর ৬ জন, ২ ও ৩ নভেম্বর ১১ জন করে, ৪ নভেম্বর ১৬ জন (মৃত্যু হয় একজনের), ৫ নভেম্বর ১৮ জন (মৃত্যু একজন), ৬ নভেম্বর ৭ জন, ৭ নভেম্বর ২১ জন ও ৮ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত ১৫ জন ভর্তি হন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন ৩৯৯ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২৭ জন। এ সময়ের মধ্যে মোট মারা যান ৬ জন। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, ‘ডেঙ্গু কোনও ছোঁয়াচে রোগ নয়। ডেঙ্গুবাহিত মশা যদি না কামড়ায় তাহলে ডেঙ্গু ছড়ানোর কোনও আশঙ্কা নেই। একটি ওয়ার্ডে মশারি দিয়ে যদি ডেঙ্গু রোগীকে সুরক্ষিত করতে পারি, আর তার পাশে যদি অন্য কোনও রোগী রাখা হয় তাতেও ডেঙ্গু ছড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। হাসপাতালে বর্তমানে ৬৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। আবার ১০ থেকে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষ ভুল বুঝে আতঙ্কিত হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতন হলে ডেঙ্গু কিছু করতে পারবে না। শুধু মশার কাছ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত করতে হবে। হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার মোঃ রবিউল হাসান বলেন, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেসব রোগী এসেছেন তাদের মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের রোগী কম। বেশির ভাগই বাইরের জেলার। তাদের অনেকেই ঢাকা থেকে আসা অথবা স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে এটা ঠিক যে হাসপাতালে শয্যা সংকট রয়েছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মাত্র ১২টি বেড রয়েছে। বর্তমানে ৬৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ফলে তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে বিভিন্ন ইউনিটের বারান্দার ফ্লোরে রাখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি ৫০০ বেডের একটি হাসপাতাল। এখানে প্রায়ই রোগীর সংখ্যা ১৫০০ পেরিয়ে যায়। তার মধ্যে ডেঙ্গু রোগীও রয়েছে। ৫০০ বেডের হাসপাতালে এত রোগীর সেবা দেওয়া খুব কঠিন। তারপরও আমরা রোগীদের সঠিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. মনজুরুল মুরশীদ বলেন, ‘চলতি মাসে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। এ বছরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে।