ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একসঙ্গে তিন সন্তান জন্ম দিয়েছেন এক গৃহবধু।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের মো. হারুন জমাদ্দার মেয়ে নাজমিন বেগম তাদের বাড়িতে কোন অস্ত্রোপচার ছাড়াই তিন সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে ওই তিন নবজাতক শিশু ও তাদের মা নাজমিন বেগম সুস্থ রয়েছেন। নাজমিন বেগম পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলা সদরের হুলারহাট এলাকার মো. ইউনুস হাওলাদারের ২য় স্ত্রী।
নাজমিন বেগম এর ভাইয়ের বউ (ভাবি) ঝুমুর বেগম বলেন, পাঁচ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলা সদরের হুলারহাট এলাকার মো. ইউনুস হাওলাদারের সাথে নাজমিনের বিবাহ হয়। ইউনুস পেশায় একজন রিক্সা চালক। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে নাজমিন জানতে পারে তার স্বামীর আগের একটি বিবাহ রয়েছে। সে ঘরেও দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। নাজমিন জানতে পেরে সেই থেকে তার বাবার বাড়িতেই থাকেন। ইউনুস সেখানে আসা যাওয়া করেন। অন্তঃসত্তা অবস্থায় নাজমিনের বাবা হারুন ভিক্ষা করে তাদের খরচ চালায়। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ প্রসব ব্যাথা উঠলে খরচ চালানোর অবস্থা না থাকায় বাড়িতেই স্বাভাবিক প্রসবে তিন সন্তানের জন্ম দেয় নাজমিন বেগম। তিনজনই পুত্র সন্তান। তাদের নানী জাহানুর বেগম তাদের তিনজনের নাম খলিলউল্লাহ, রবিউল আলম ও ইমাম হোসেন রেখেছেন। নাজমিনের এর আগেও লিমা নামে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নাজমিনের ভাই মো. হাফেজ জমাদ্দার জানান, আমি একসঙ্গে তিন ভাগনের মামা হয়েছি। বোনের তিন নবজাতকের জন্মের খরব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই এলাকার লোকজন ভাগনাদের দেখতে আসছেন। কেই ছবি তুলছেন। আমার ভাগনেরা ও বোন সুস্থ রয়েছে।
নাজমিনের বাবা মো. হারুন জমাদ্দার জানান, আমি অসুস্থ মানুষ, এক বছর আগে আমার পা ভেঙ্গে পঙ্গু হয়েছি। পায়ের মধ্যে এখন রড দেয়া রয়েছে। লোকজনের কাছে হাত পেয়ে যা পাই তা দিয়েই কোন রকম চলে আসছিল। এখন একসঙ্গে তিন নাতির নানা হয়েছি। কিভাবে তাদের চালাবো চিন্তা করতেছি। নাতিদের জন্মের খরব পেয়েও তাদের বাবা এখন পর্যন্ত কোন খোঁজখবর নেয়নি।